মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর আত্মঘাতী ঘটনায় মূল অভিযুক্ত গ্রেফতার - The News Lion

মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর আত্মঘাতী ঘটনায় মূল অভিযুক্ত গ্রেফতার

 


দি নিউজ লায়ন;   প্রায় দশ মাস আগে একটি মোবাইল চুরির যোগসূত্রে এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর আত্মঘাতী ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে সোনারপুর থানার বিদ্যাধরপুর এলাকায় এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী আত্মঘাতী হয়েছিল।


ঘটনার সূত্রপাত, বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে ওই ছাত্রীর বাবার মুদিখানার দোকান ছিল। দুপুরে বাবা স্বপন সাহা বাড়িতে খাবার খেতে এসেছিলেন। ওই সময় দোকানে ছিল তার মেয়ে ওই মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। তদন্তকারীরা জানান, সাইকেল চালিয়ে এক যুবক দোকানে আসে। ওই ছাত্রীকে নানা জিনিসের ফরমায়েশ করে। এরপর টাকা আনতে ভুলেই গিয়েছে বলে ওই ছাত্রীর কাছ থেকে মোবাইল ফোনটি চেয়ে নেয়। ওই যুবক বলে,"বাড়িতে ফোন করে টাকা নিয়ে আসার ব্যবস্থা করছি।


"ওই ছাত্রী ফরমায়েশ অনুযায়ী নানা জিনিস প্যাকেটে ভরতে থাকে। ওই ছাত্রীর অন্যমনস্কতার সুযোগে মোবাইল ফোনটি নিয়ে সাইকেল চালিয়ে চম্পট দেয় ওই যুবক। স্কুলের অনলাইনের পড়াশোনার জন্য ওই ছাত্রীকে ফোনটি কিনে দিয়েছিলেন স্বপনবাবু। ফোনটা চুরি হয়ে যাওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল ওই ছাত্রী। দোকান থেকে বাড়ি গিয়ে নিজের ঘরে দরজা বন্ধ করে দিয়ে ওড়নার ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হয় সে।


সোনারপুর থানার আইসি সঞ্জীব চক্রবর্তী বলেন,"ওই ঘটনা আমাদের সমস্ত কর্মীদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল। আমরা 'চ্যালেঞ্জ' নিয়েছিলাম। ওই যুবককে গ্রেফতার করতেই হবে।"

তদন্তকারীরা জানান,"ওই ছাত্রীর চুরি যাওয়া মোবাইলটির ইএমআই নম্বর সংগ্রহ করা হয়। এবং ওই নম্বর অনুযায়ী মোবাইলটির উপর নজরদারি চালানো হচ্ছিল। কলকাতা পুলিশসহ রাজ্যের সমস্ত থানা ও কমিশনারেটকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ওই মোবাইলটির উপর নজরদারি চালানো আবেদন করা হয়।

কি ভাবে ধরা পড়ল ওই মোবাইল চোর?


সোনারপুর থানা সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকদিন আগে আচমকা এই মোবাইলটি চালু হয়েছে ধরা পড়ে। ওই মোবাইল সূত্র ধরে সোনারপুর থানা এলাকা থেকে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এবং সে কোথা থেকে এই মোবাইলটি কিনেছে সেই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়। জানা যায়, সোনারপুর থানার নাটাগাছি এলাকার বাসিন্দা পেশায় রাজমিস্ত্রি সন্দীপ ঘোষ ওরফে রোগা নামে এক ব্যক্তি সাড়ে চার হাজার টাকায় এই মোবাইলটি তাকে বিক্রি করেছে। এরপর নাটাগাছি থেকে রবিবার রাতে  সন্দীপকে গ্রেফতার করা হয়।


তদন্তকারীরা জানান, পেশায় রাজমিস্ত্রি হলেও সন্দীপ নানা উপায় লোকের কাছ থেকে মোবাইল নিয়ে গায়েব হয়ে যেত। বেশ কয়েকবার কলকাতা পুলিশের কাছে মোবাইল চুরির ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছে সন্দীপ।

ধৃতকে মোবাইল চুরি ও আত্মহত্যার প্ররোচনার ধারায় মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ধৃতকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জেরা করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত প্রায় শতাধিক মোবাইল চুরি করেছে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.